नियमित अपडेट के लिए सब्सक्राईब करें।
9 mins read
মহারাষ্ট্র | মহারাষ্ট্র
সংঘর্ষই জীবনের সজ্জা, কেননা আগুনের তীব্র তাপে জ্বলতে জ্বলতেই সোনা পরিশুদ্ধ হয়ে তার ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ পায়। জীবনের সূত্রপাতও সংঘর্ষের মাধ্যমে হয়। সঠিক দিশা ও পথের সন্ধান পেলে এই সংঘর্ষই জীবনে সাফল্য নিয়ে আসে। স্বর্গীয় ডাঃ কুসুমতাঈ মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলীতে ভগিনী নিবেদিতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমন অনেক সংঘর্ষময় জীবন যাপনকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলে তাদের জীবনকে বাকিদের কাছে উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলেন। মাত্র ৬ বছরের কাজলের বাবা-মা গভীর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, কিন্তু কাজল এই দুঃখকে জয় করে। আশ্রমের সবার কাছে সে অত্যন্ত গর্বের। নিজের পড়াশোনা শেষ করে, নিজস্ব একটা আর্ট স্টুডিও খুলে সমাজের কাছে উদাহরণ হয়ে ওঠে। আর অপরদিকে ছোটোবেলা থেকেই মা-বাবার কাছ ছাড়া হয়ে আশ্রমে বেড়ে ওঠা কবিতা অশোক গায়কওয়াড, তার সংঘর্ষের লেখনিতে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কাহিনি রচনা করেছে। আজ সে পুণের কোথরুড থানাতে পুলিশের চাকরির মাধ্যমে শুধু তার দায়িত্ব পালন করছে তা নয়, বরং প্রকৃত সেবা করে চলেছে।

দেশের এমন অনেক কন্যা সন্তান রয়েছে, যারা হয়তো শৈশবেই অন্ধকার গলিতে, সমাজের কুরীতির যাঁতাকলে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলছিল, কিন্তু ভাগ্যচক্রে ভগিনী নিবেদিতা প্রতিষ্ঠানের সাহচর্য পেয়ে, আশ্রমের সুন্দর পরিবেশে নিজেদের সুস্থ-সবল করার পাশাপাশি সংস্কার, সৎ আচরণের দ্বারা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তোলে যে, সমাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।
আজ সেসব মেয়েরা প্রতিষ্ঠানের কাছে অত্যন্ত গর্বের। ১ এপ্রিল, ১৯৭০, ডাঃ কুসুমতাঈ ঘাণেকর এই প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা করেন। যার বিভিন্ন গতিবিধির মাধ্যমে ১৪ হাজারেরও বেশি বালিকা ও মহিলাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, সুশিক্ষা তথা সহায়তা প্রদানের ফলে ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ তৈরি করতে সমর্থ হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির কার্যকর্ত্রী হওয়ার দরুন কুসুমতাঈ সরকারি হাসপাতালে মহিলা ও শিশুদের নানান পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। একজন বিশেষজ্ঞ হওয়ার কারণে তিনি ভালোমতই বুঝতে পেরেছিলেন, মহিলাদের সুস্থ রাখতে শুধুমাত্র শারীরিক দিকটাই যথেষ্ট নয়, বরং মানসিকভাবেও তাদের শক্ত সমর্থ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সমাজের অভ্যন্তরে চলতে থাকা কুরীতি, অশিক্ষা,
অপুষ্ট আহারের প্রশ্নগুলির সমাধান খোঁজা দরকার। নিবেদিতা প্রতিষ্ঠান সবার আগে কমবয়সী অত্যাচারিত বা অবৈধ শারীরিক ব্যবসাতে ফেঁসে যাওয়া পীড়িত বালিকা, কিশোরীদের আশ্রয় দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করতে ‘মাহের’ (মাতৃগৃহ) প্রকল্প আরম্ভ করেন। এই প্রকল্পই বর্তমানে ‘স্বাধার’ নামে পরিচিত।
বিদ্যার্থী পরিষদে পূর্ণকালীন রূপে কাজ করা এবং এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বিনীতা তেলঙ্গ দিদি জানান, যেকোনো ধরনের পীড়িতা মহিলা এই প্রতিষ্ঠানে ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত নিঃশুল্ক থাকতে পারে। এখানে তাদের শারীরিক, মানসিক,
আইনি সহায়তা,
চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা পেয়ে থাকে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে স্বনির্ভর করার চেষ্টাও করা হয়। সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে তালমেল বজায় রেখে মহিলাদের মধ্যে জনজাগরণ শিবির, বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ, ক্যান্টিন-দোকান চালানো, অফিসের ফাইল বানানো প্রভৃতি কাজে উদ্যোগ নিয়ে মহিলাদের স্বনির্ভর করা হয়। স্বাধার গৃহ নিয়মিতভাবে বিউটি পার্লার, কাগজের ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মেয়ে পার্লার ও নার্সিংএর প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে। মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে চলতে থাকা দেবদাসীর মত সামাজিক কুরীতির বিরুদ্ধে কুসুমতাঈ আন্দোলন গড়ে তোলেন, নেতার ভূমিকা পালন না করে মায়ের ভূমিকা পালন করেন। সামাজিক অধঃপতনের কালখণ্ডে অশিক্ষা ও অজ্ঞানতার ফলে অন্ধকারের গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া মাতৃজাতি বের হয়ে আসার রাস্তা পাচ্ছিল না। এই অন্ধকার দূর করতে এক আবাসিক প্রকল্প আরম্ভ করে, যেখানে মাত্র ৬ বছরের কন্যা শিশুদের যুবাবস্থা পর্যন্ত সুশিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে, সমাজে মাথা উঁচু করে চলার জন্য অনুপ্রাণিত করা হয়। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কেবলমাত্র দেবদাসীদের জীবন নয়, বরং সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। পথ যতই কঠিন হোক না কেন, ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলে গন্তব্য পর্যন্ত অবশ্যই পৌঁছানো সম্ভব।
যে সময় এইচআইভি এক ভয়াবহ রোগ ছিল, কেউই তেমন কিছু এবিষয়ে জানত না, সেসময় ডাক্তার কুসুমতাঈ-এর সাহসী ও নিঃস্বার্থ সেবার পরিণাম স্বরূপ ভগিনী নিবেদিতা প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, যেখানে এইচআইভি আক্রান্ত কিশোরী বা মহিলাদের নিরাময়ের জন্য আবাসিক কেন্দ্র চলে। যেখানে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা সরকার ও সমাজের সহযোগিতায় চলে। বর্তমানে সাঙ্গলীর যশবন্তনগরে এইডস আক্রান্ত কিশোরীদের আবাসিক আশ্রম রয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রান্ত বৌদ্ধিক প্রমুখ সুনীল কুলকর্ণী বলেন, সংগঠনের মাধ্যমে সাঙ্গলীতে বিভিন্ন ধরনের কাজ ও কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ২টি অনাথাশ্রম, ২টি ফ্যামিলি কাউন্সিলিং সেন্টার, পীড়িত মহিলাদের জন্য স্বল্পকালীন আবাসিক কেন্দ্র ‘স্বাধার’, ‘অন্নপূর্ণা’ খাদ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অল্পশিক্ষিত ও অসহায় ছেলে-মেয়েদের জন্য ‘ডাক্তার কুসুমতাঈ ঢামেকের ব্যবসায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ চলছে। এই কেন্দ্রটি ভোকেশনাল বোর্ড দ্বারা স্বীকৃত। এখানে প্যারামেডিকেল কোর্স, বিউটি পার্লার, ফ্যাশন ডিজাইনিং কোর্স চলছে। এখানে পাঠরত ছাত্রীদের জন্য বসতি গৃহের ব্যবস্থাও রয়েছে।

কুসুমতাঈ-এর দূরদর্শিতা থেকে আরম্ভ হওয়া সংস্থা পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেছে এবং বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নানান প্রকল্প নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।
-------------------------
xx ------------------------
नियमित अपडेट के लिए सब्सक्राईब करें।