नियमित अपडेट के लिए सब्सक्राईब करें।
গুজরাটে | গুজরাট
সমগ্র সৃষ্টিতে এক সূর্যই অনন্ত কিরণে চারিদিকে আলোকিত করে। ঠিক তেমনি গুজরাটের নরেন্দ্র কাকা, তাঁর ব্যক্তিত্ব আজও অগণিত জনমানসে রাষ্ট্রপ্রেম জাগ্রত করতে প্রেরণা দিয়ে চলেছে।
গুজরাটের অমরেলীতে নরেন্দ্র ভাই পঞ্চাসরার জন্ম এবং পঞ্চমহাল জেলায় গ্রামীণ অঞ্চল থেকে প্রচারক জীবন শুরু করেন। ১৯৭৭ সালে তাঁর কেন্দ্র সুরতে স্থানান্তরিত হয়, ততদিনে তিনি তাঁর জীবনের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন এবং তা ছিল দক্ষিণ গুজরাটের জনজাতি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। ব্যাস, সেই মতো অর্জুনের ন্যায় লক্ষ্য ভেদ করতে এক বিস্তৃত পরিকল্পনা করেন। জনজাতি সমাজে অশিক্ষা, নেশা, ধর্মান্তরণ,
বেকারত্ব, দারিদ্র, বিলুপ্তির পথে যাওয়া জৈব চাষ প্রভৃতি সমস্যার সমাধান করতে সুরতে ১৯৯৯ সালে ডঃ আম্বেদকর বনবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়।
যার প্রবল ইচ্ছাশক্তি, তার কাছে বয়সটা কোনো বাধা হতে পারে না। নরেন্দ্র কাকার জীবনের ৬৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কল্যাণ রূপী এই ট্রাস্টের রথে চড়ে সুরতের পাশে ডাঙ্গ ও তাপী জেলায় প্রায় ২৭০ গ্রামে বিকাশের পথ নির্মাণ হয়। জীবন সন্ধ্যায় অর্থাৎ শেষ ১৮ বছরের অবিরত সেবাগঙ্গায় হাজারো পরিবার লাভান্বিত হয়।
শ্রী নরেন্দ্র ভাই গিরধারীলাল পঞ্চাসরার জন্ম হয় ১৯৩৩ সালে, গুজরাটের অমরেলীতে। মাত্র ৪ বছর বয়সেই মাতৃহারা হন। গিরধারীলাল পঞ্চাসরা সমস্ত সন্তানের প্রতি বাবা-মা উভয়েরই দায়িত্ব অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে পালন করেন। তৎকালীন প্রান্ত প্রচারক শ্রী লক্ষ্মণরাও ইনামদার ছোট্ট নরেন্দ্রকে শাখায় নিয়ে আসেন এবং সারা জীবন তার পথ প্রদর্শক হিসেবে থাকেন। সেবা মনোভাবী বালক নরেন্দ্র নিজেকে রাষ্ট্র সেবার জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। অমরেলীতে পড়াশোনা শেষ করে ভেতরের সুপ্ত চিত্রশিল্পীকে জাগিয়ে তুলে ইন্দোরে অর্থ উপার্জনের জন্য যাওয়ায় কথা ঠিক করেন, কিন্তু মনের মধ্যে রাষ্ট্র সেবার তীব্র ইচ্ছা নিজেকে পূর্ণ সমর্পিত করে দেয়। ২৫ বছর বয়সে গোধরা থেকে প্রচারক জীবনে আত্মনিয়োগ করেন।
নরেন্দ্র ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করে যাওয়া পূর্ণকালীন কার্যকর্তা ভূপেন্দ্র ভাই বলেন, ডঃ আম্বেদকর বনবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট ডাঙ্গ ও তাপী জেলায় ১৩০ সখী মণ্ডলের রচনা করেন, ১৬০০-র বেশি মহিলাদের সক্ষম ও স্বাবলম্বী বানানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্বের ভাবনা জাগিয়ে তোলে। ২৫০টি গ্রামে কৃষকদের আয় বাড়াতে ট্রাস্টের উদ্যোগে জৈব চাষ এবং বীজ তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ট্রাস্টের সেবাব্রতী কার্যকর্তাদের দ্বারা ২০০৬ সালে তাপী জেলায় সোনগড় মহকুমা অন্তর্গত গতাড়ী গ্রামে গ্রাম বিকাশের কাজ শুরু হয়। আধুনিক কৃষি, বীজ উৎপাদন, জল সংধারণের উদ্দেশ্যে বোরীবাঁধ নির্মাণ, দেশি সার ও জীবামৃত বানানোর জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে প্রভাবশালী নিদর্শন তৈরি করা হয়। কার্যকর্তাদের প্রচেষ্টা এবং নরেন্দ্র কাকার পথনির্দেশ, মাত্র ১৪ বছরে গতাড়ী আদর্শ গ্রাম হয়ে ওঠে। ফসলের ন্যায্য মূল্য লাভের জন্য কৃষক মেলারও আরম্ভ হয়। সেবাধামের মাধ্যমে ২০০৩ সালে আহবা গ্রামে ভাড়াবাড়িতে ছাত্রাবাস শুরু হয় এবং ২০০৫ সালে সেবাধামের নিজস্ব ভবনে নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত বঞ্চিত ছাত্রদের জন্য ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে নরেন্দ্র কাকার সান্নিধ্যে থেকে কাজ করে যাওয়া তৎকালীন পশ্চিম সুরাট সঙ্ঘচালক শ্রী মিঠালাল জৈন বলেন, কচ্ছতে যে সময় ভূমিকম্প আসে সে সময় কার্যকর্তারা দিনরাত পরিশ্রম করে ট্রাস্টে বিতরণ করার জন্য ১৫ দিন চলবে এমন খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তৈরি করে। দ্বিতীয় দিনে লক্ষ্য করা যায়, কিছু প্যাকেট কম। কার্যকর্তাদের খেয়াল হয়, পাশেই একটা নির্মাণের কাজ চলছে আর সেখানে থাকা শ্রমিকদের মধ্যেই কয়েক জন কিছু প্যাকেট চুড়ি করতে পারে বলে মনে হয়। একথা তারা নরেন্দ্র কাকাকে জানায়। তখন তিনি তাদের বলেন আপনারা একেকটা প্যাকেট তাদের প্রত্যেকের ঘরে পৌঁছে দিয়ে আসুন। সকলেই অবাক হয়ে যায়। যারা চুড়ি করলো তাদের এসব দেওয়া কারও কাছেই স্পষ্ট হচ্ছিল না। নরেন্দ্র কাকা বলেন, এটা আমাদেরই ব্যর্থতা যে, তাদের খাবার চুড়ি করতে হচ্ছে, যেখানে সকলের ভরণপোষণের দায়িত্ব সমাজের। খাদ্যসামগ্রী পেয়ে শ্রমিকেরা সকলেই নিজেদের ভুল বুঝতে পারে।
তাঁর সান্নিধ্যে থাকা প্রত্যেকেরই কথা তিনি চিন্তা করতেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কাছে সারথীর কাজ করা চৌধরী কাকা বলেন, তার দুই ছেলেরই কথা বলতে সমস্যা হত, নরেন্দ্র কাকা দুজনকেই শাখাতে গান আর প্রার্থনা করার দায়িত্ব দেয়, ফলস্বরূপ দুজনেরই তোতলামি আর গলার সমস্যা সেরে যায়।
কাকে কীভাবে সমাজের কল্যাণে লাগানো যেতে পারে তা তিনি ভালোমতোই জানতেন। বর্তমানে আম্বেদকর ভবনের ট্রাস্টি পীযূষ মেহতা বলেন, ২০০৫ সাল নাগাদ নরেন্দ্র কাকা তাকে তার কাজে অবসর কতদিন পর তা জানতে চান। উত্তরে তিনি বলেন, দু বছর পর ৩০ নভেম্বর। ব্যাস সঙ্গে সঙ্গেই নরেন্দ্র কাকা বলেন, আপনি তার পরদিন ১ ডিসেম্বর কার্যালয়ে চলে আসুন, আপনার জন্য কাজ ঠিক করা হয়ে গেছে। ২০০৭ সাল থেকে এখনও সেই কাজ অব্যাহত আছে। ঘটনাটা ২০০৫ সালের, অর্থাৎ দুই বছর পরের পরিকল্পনাও নরেন্দ্র কাকা করে ফেলেছিলেন। কার্যকর্তার সম্বন্ধে সুক্ষ্ম দৃষ্টি ছিল, কার্যকর্তাকে দেখেই তার গুণ বুঝতে পারতেন।
কিছু মানুষ এই পৃথিবী ছেড়ে গিয়েও আমাদের মাঝেই থেকে যান। গুজরাটে নরেন্দ্র ভাই পঞ্চাসরা আজও তাঁর কাজের মাধ্যমে জনমানসে স্থায়ী রয়ে গেছেন। তাঁর স্নেহপূর্ণ ব্যবহারের কারণে তিনি আজ সকলের নরেন্দ্র কাকা।
--------------------
XXX --------------------
नियमित अपडेट के लिए सब्सक्राईब करें।